ফুটবল মাঠে নাটকীয়তার শেষ নেই, যার সর্বশেষ শিকার সেনেগাল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগালের। ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে বেলজিয়ামের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সাদিও মানেদের উত্তরসূরিদের। এই ফলাফল সেনেগাল শিবিরে যেমন শোকের ছায়া ফেলেছে, তেমনি ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিয়েছে এক অবিস্মরণীয় ম্যাচ।
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই সেনেগাল তাদের স্বভাবসুলভ গতি ও শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দেয়। প্রথমার্ধে একটি এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করে তারা জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল। রক্ষণভাগ ছিল সুসংগঠিত, আর মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগের সমন্বয় ছিল দেখার মতো। মনে হচ্ছিল, সেনেগাল অনায়াসেই শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। তবে ম্যাচের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যায় ৮৫তম মিনিটের পর। বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা হঠাৎ করেই জ্বলে ওঠেন এবং সেনেগালের রক্ষণে ফাটল ধরাতে সক্ষম হন।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বেলজিয়াম প্রথম গোলটি শোধ করলে সেনেগাল কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ে। এর ঠিক পরেই এক বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ম্যাচটিকে নতুন মোড় দেয়। রেফারি ভিএআর (VAR) চেক করে বেলজিয়ামকে পেনাল্টি প্রদান করলে গ্যালারিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে। বেলজিয়াম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরায়। এরপর অতিরিক্ত সময়ে বেলজিয়ামের জয়সূচক গোলটি সেনেগালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।
এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে ‘হার্টব্রেক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জয়ের এত কাছাকাছি গিয়েও শেষ মুহূর্তের ভুলে বিদায় নেওয়া মেনে নেওয়া কঠিন সেনেগালিজ সমর্থকদের জন্য। অন্যদিকে, বেলজিয়াম প্রমাণ করেছে যে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ফুটবলে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সেনেগালের এই বিদায় মাঠের লড়াইয়ে মানসিক শক্তির অভাবকেও সামনে নিয়ে এসেছে। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও, সেনেগালের এই লড়াই দীর্ঘদিন ফুটবল ভক্তদের আলোচনায় থাকবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে