ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এক ভয়াবহ ও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। হামলার তীব্রতায় শহরগুলোর আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই এই ‘বিশাল আকারের’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত সত্যে পরিণত হলো।
রাশিয়ার এই নজিরবিহীন হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশগুলো নড়েচড়ে বসেছে। পোল্যান্ড আকাশসীমা সুরক্ষায় দ্রুত তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, অন্যদিকে ফিনল্যান্ডও তাদের আকাশসীমার ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার একটি নতুন পর্যায়। ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও হামলার ব্যাপকতা ছিল ধারণাতীত।
কিয়েভের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ছবিতে দেখা গেছে, আবাসিক স্থাপনায় আগুনের কুণ্ডলী এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ ঢেকে ফেলেছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং সাইরেন শুনলে দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, কিয়েভের পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের দাবি পুনরায় জোরালো করা হয়েছে।
এই হামলার রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যাপক। জেলেনস্কি এই ঘটনাকে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ্বনেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে রাশিয়া বরাবরই তাদের সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা দাবি করে আসছে। এই হামলা যুদ্ধের ময়দানে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক চাপ বাড়ালেও, মাঠপর্যায়ে লড়াইয়ের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে