ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন যে, মানবাধিকার কমিশনকে যদি সরকারের আজ্ঞাবহ বা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়, তবে তা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য চরম আত্মঘাতী ও নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে। সম্প্রতি মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান স্পষ্ট করেন যে, একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে মানবাধিকার কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিকীকরণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা থেকে উত্তরণের প্রত্যাশা দেশের মানুষের রয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত সরকারগুলো যেভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে, তা দেশের বিচারিক ও মানবাধিকার সুরক্ষার কাঠামোকে ভেঙে ফেলেছিল। বর্তমান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশনের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের যেকোনো পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া। সরকার যদি কমিশনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে, তবে সেটি সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। তিনি পরামর্শ দেন যে, কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং এমন ব্যক্তিদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া উচিত যারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে সক্ষম।
রাষ্ট্র সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়ায় ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, কমিশনকে কেবল আইনি কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর কার্যকারিতা মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান করতে হবে। সরকারের সমালোচনা করার অধিকার কমিশনের থাকা উচিত এবং সরকারেরও উচিত সেই সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা। পরিশেষে, তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যদি বর্তমান সরকার বিগত আমলের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নেয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেয়, তবে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দেবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে