বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো কনফিডেন্স সল্ট ও প্রথম আলো আয়োজিত জনপ্রিয় রন্ধন প্রতিযোগিতা ‘পাক্কা রাঁধুনি’র গ্র্যান্ড ফিনালে। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ ও মান অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রামের রন্ধনশিল্পীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এবারের আসরে অংশ নেওয়ার জন্য মোট ৫৭৮ জন আগ্রহী প্রতিযোগী আবেদন করেছিলেন, যাদের মধ্য থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয় ১০ জন দক্ষ রাঁধুনিকে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করা হয়। লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত উপকরণ ব্যবহার করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের সুস্বাদু ও মানসম্মত খাবার প্রস্তুত করতে হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জিং সময়েও প্রতিযোগীরা তাঁদের রন্ধনশৈলীর মুনশিয়ানা প্রদর্শন করেন। বিচারকদের চুলচেরা বিশ্লেষণে সেরা রাঁধুনি হিসেবে নির্বাচিত হন ফারহানা চৌধুরী জলি। তিনি ঐতিহ্যবাহী ‘কষা গরুর মাংস’ রান্না করে বিচারকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া, খাট্টামিট্টা পোস্তদানা দিয়ে রুই মাছ রান্না করে প্রথম রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মোহাম্মদ বাইজিদ এবং ইলিশের ঐতিহ্যবাহী পদ ‘ইলিশের পানি খোলা’ রান্না করে দ্বিতীয় রানারআপ হন সাহিরা হোসাইন।
পুরস্কার বিতরণী পর্বের পাশাপাশি আয়োজনে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভা। বক্তারা রান্নার সামাজিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন। তাঁরা বলেন, রন্ধনশিল্প কেবল একটি গৃহস্থালি কাজ নয়, বরং এটি একটি শিল্প যা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমান সময়ে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও রান্নার প্রতি আগ্রহ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আধুনিক জীবনযাত্রায় দেশীয় খাবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য, কনফিডেন্স সল্টের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাটি চট্টগ্রামের রন্ধনপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া দেশীয় রেসিপিগুলো পৌঁছে দেওয়া এবং রান্নার শিল্পকে পেশাদারিত্বের উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে