অযোধ্যা রাম মন্দিরে ‘বড়সড় লুট’: তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা, অস্বস্তিতে বিজেপি

অযোধ্যা রাম মন্দিরে ‘বড়সড় লুট’: তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা, অস্বস্তিতে বিজেপি

ভারতের অযোধ্যায় নবনির্মিত রাম মন্দিরে সংঘটিত ধারাবাহিক চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের দানপাত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির এই ঘটনা এখন আর কেবল একটি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এই স্পর্শকাতর বিষয়টি তদন্তের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) মেয়াদ ১৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ালেও, চুরির ব্যাপ্তি এবং এর গভীরতা বিবেচনায় তদন্তভার সিবিআই বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাত্র ৩৯ দিনে প্রায় ৭০ বার মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মহাকুম্ভ মেলার সময় চুরির মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই চুরির সঙ্গে মন্দিরের ট্রাস্টি সদস্য অনিল মিশ্রর আত্মীয়দের নাম জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির পরিমাণ ২০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ কেবল নগদ অর্থ নয়, মন্দিরে আসা দামি সামগ্রীও হাতবদল হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তদন্তের ভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত লুট’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি বিজেপি ও আরএসএস-কে নিশানা করে অভিযোগ করেছেন যে, তারা ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। বিরোধীদের দাবি, এই অর্থ আরএসএস ও বিজেপির কোষাগারে জমা হয়েছে। আরএসএস নিবন্ধিত সংস্থা না হওয়ায় তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই, যা এই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

এই ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অযোধ্যার স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের ওপর। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে মন্দিরে পুণ্যার্থীদের সমাগম অন্তত ৫০ শতাংশ কমে গেছে, যার ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। হোটেল ব্যবসা ও পূজার সামগ্রী বিক্রির ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর যে বিপুল পর্যটক সমাগম হয়েছিল, তা এখন চুরির ঘটনায় ম্লান হতে বসেছে। সব মিলিয়ে, আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাম মন্দিরের এই ‘অর্থলুট’ ইস্যুটিকে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিরোধী দলগুলো প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

এছাড়াও

ট্রাম্প সমর্থিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ তহবিলে জালিয়াতি: দাতাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের

ট্রাম্প সমর্থিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ তহবিলে জালিয়াতি: দাতাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন ‘ফ্রিডম ২৫০’-এর বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *