ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি অন্যতম বড় ও ধ্বংসাত্মক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কিয়েভের আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানে। এই হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকের আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রাশিয়ার এই বড় ধরনের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনও বসে নেই। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থিত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। মস্কোর জ্বালানি খাতকে অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউক্রেনের এই কৌশলগত আক্রমণ রাশিয়ার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনতে এবং তাদের যুদ্ধের রসদ সরবরাহে বাধা দিতেই কিয়েভ এই পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পোল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে। পোল্যান্ড তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে উড়িয়ে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, তারা ইউক্রেনের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে এবং কিয়েভের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করবে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা উভয় পক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং বেসামরিক অবকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে। রাশিয়ার এই আগ্রাসী মনোভাব এবং ইউক্রেনের পাল্টা হামলার ফলে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বনেতারা এখন এই সংঘাত প্রশমনে নতুন করে আলোচনার পথ খুঁজছেন, যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে