ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া একযোগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই এই হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ হামলায় কিয়েভে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। রাশিয়ার এই আক্রমণকে গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম বিধ্বংসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। তবে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় শহরের অনেক এলাকায় ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। পোলিশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়ার হামলার ধরণ এবং ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে তারা বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডও তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে রাশিয়ার এই কৌশলী হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে অচল করে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে কিয়েভ বারবার রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক এই বড় মাত্রার আক্রমণ চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় ইউক্রেনীয়দের জন্য মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে