সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় পারিবারিক বিবাদের জেরে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ তৃতীয় খণ্ড গ্রামের করুণা সুন্দরী দীঘির পার্শ্ববর্তী সড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর ওই গ্রামের মোসা মিয়ার ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে পারিবারিক কলহের জেরে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তাদের দুই সন্তানসহ বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রীকে পুনরায় সংসারে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনার জন্য জাহাঙ্গীর তার ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিনের সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল বিকেলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা দেখা দিলে জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর আলম যখন নিজ বাড়ি থেকে বড়বন্দ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন করুণা সুন্দরী দীঘির কাছে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে শামীম উদ্দিন, তার ভাই ডালিম উদ্দিন ও নাইম উদ্দিন এবং তাদের আত্মীয় তারেক আহমদ ও শাহেদ আহমদসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ভায়রা ভাইদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।” বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে