প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতায় বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এক অভাবনীয় ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসী। দেশটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৪৪ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শিশুটির বেঁচে থাকার এই ঘটনাকে উদ্ধারকর্মীরা ‘অলৌকিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত সপ্তাহের ভয়াবহ সেই ভূকম্পনে জনপদগুলো যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখন থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী ও রেডক্রসের উদ্ধারকারী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিল।
উদ্ধারকারী দলের প্রধান জানান, শহরের একটি বিধ্বস্ত বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতরে ক্ষীণ শব্দ শুনতে পেয়ে তারা অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করেন। কংক্রিটের বিশাল স্তূপের নিচে একটি ছোট গহ্বরে শিশুটিকে আটকে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার অভিযানের সময় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল, যাতে শিশুটির কোনো ক্ষতি না হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর শিশুটিকে বের করে আনার সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুটিকে দ্রুত নিকটস্থ ফিল্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছয় দিন পানাহারহীন অবস্থায় থাকার পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে প্রায় অসম্ভব।
ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এমন একটি শিশুর জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি পুরো উদ্ধারকারী দলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মনে বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটির পরিবারের অন্য সদস্যদের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তবে কর্তৃপক্ষ তাদের সন্ধানে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী অনুসন্ধানের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে