বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী চীন। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এক কূটনৈতিক আলোচনায় এ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বেইজিংয়ের এই সমর্থন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন স্পষ্ট করেছেন যে, চীন সব সময় অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর নীতিতে বিশ্বাসী এবং বাংলাদেশ সরকার যে নীতি অনুসরণ করছে, চীন তাকে পূর্ণ সমর্থন দেয়।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাথে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে, তখন চীনের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীনের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি একান্তই দেশটির নিজস্ব বিষয় এবং এ প্রক্রিয়ায় বাইরের কোনো পক্ষের অযাচিত হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। বেইজিং মনে করে, বাংলাদেশের জনগণ নিজেরাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্ষম এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সেই সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানানো।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার সম্পর্ক বিদ্যমান। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন বারবারই বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়েও বেইজিং বাংলাদেশের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রতি তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সমর্থন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, বিশেষ করে যখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে চীন অবকাঠামো প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের সাথে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। সামগ্রিকভাবে, বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতায় চীনের এই অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক নৈতিক সমর্থন হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে