নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি সফটওয়্যার পরীক্ষার অভিযোগ: বিপাকে বোয়িংয়ের উইস্ক অ্যারো

নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি সফটওয়্যার পরীক্ষার অভিযোগ: বিপাকে বোয়িংয়ের উইস্ক অ্যারো

বিশ্বজুড়ে উড়ন্ত ট্যাক্সি বা এয়ার-ট্যাক্সি প্রযুক্তির প্রসারে অন্যতম অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান ‘উইস্ক অ্যারো’ (Wisk Aero) বর্তমানে বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে। বোয়িংয়ের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা ২০২৫ সালের নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট পরীক্ষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সফটওয়্যার নিরাপত্তা যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করেছে। একজন সাবেক সফটওয়্যার ম্যানেজারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা আধুনিক এভিয়েশন প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও গুণমান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগকারী সফটওয়্যার ব্যবস্থাপকের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিক সাফল্যের চাপে এবং সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদে নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে আপস করেছে। তার ভাষ্যমতে, সফটওয়্যার কোডিং এবং এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে পর্যাপ্ত সময় ও কঠোর পরীক্ষার প্রয়োজন ছিল, তা না করেই ফ্লাইট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। অভিযোগকারী এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

উইস্ক অ্যারো মূলত স্বয়ংক্রিয় বা অটোনোমাস ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (eVTOL) এয়ারক্রাফট তৈরির ওপর কাজ করছে। এই ধরনের প্রযুক্তিতে সফটওয়্যার ত্রুটির সামান্যতম অবকাশও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি তড়িঘড়ি করে সফটওয়্যার পরীক্ষা করা হয়, তবে তা আকাশপথে যাতায়াতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। বোয়িংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংগঠন হিসেবে উইস্ক অ্যারোর ওপর বিশ্ববাসীর যে আস্থা ছিল, এই অভিযোগ সেই আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে।

যদিও উইস্ক অ্যারোর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিটি পর্যায়ে তারা কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে এবং সফটওয়্যার পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শর্টকাট অবলম্বন করা হয়নি। তবে এই পুরো ঘটনার পর নীতিনির্ধারক সংস্থাগুলো এবং এভিয়েশন নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক মহল প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। ফ্লাইট পরীক্ষার আগে সফটওয়্যারের কার্যকারিতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা সমাধানে স্বতন্ত্র তদন্তের দাবিও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতে উইস্ক অ্যারো এখন কতটা স্বচ্ছতার পরিচয় দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বৈশ্বিক এভিয়েশন শিল্প।

এছাড়াও

গেম তৈরিতে নতুন দিগন্ত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ ‘পকেট’ আনল মেটা

গেম তৈরিতে নতুন দিগন্ত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যাপ ‘পকেট’ আনল মেটা

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জয়জয়কার অব্যাহত রয়েছে। এই ধারায় এবার নতুন এক চমক নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *