ফেনীতে পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু: রেলপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ফেনীতে পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু: রেলপথে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ফেনী, ১৬ জুন (প্রতিনিধি): ফেনীতে পৃথক দুটি মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় এক নারীসহ দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেনী শহরের নাজির রোড এবং সদর উপজেলার শর্শদি রেলগেট এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা দুটি স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, একই সাথে রেলপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিহতরা হলেন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মধ্যম শিলুয়া গ্রামের আলী আশরাফের স্ত্রী রেজিয়া বেগম (৫৫) এবং সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের গজারিয়া কান্দি গ্রামের মোহাম্মদ ইউছুফের ছেলে আবু সুফিয়ান (২৩)। রেজিয়া বেগম ফেনী শহরের নাজির রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। অন্যদিকে, আবু সুফিয়ান তার নিজ গ্রামেই থাকতেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার শর্শদি রেলগেট এলাকায়। সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন দ্রুত গতিতে শর্শদি রেলগেট অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই আবু সুফিয়ান ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রেললাইন পার হওয়ার সময় অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

একই দিন সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ফেনী শহরের নাজির রোড এলাকায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন রেজিয়া বেগম। রেললাইন ধরে হাঁটার সময় তিনি ট্রেনের নিচে চলে আসেন। ট্রেনের ধাক্কায় তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। রেলওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করে। স্বজনরা জানিয়েছেন, রেজিয়া বেগম বার্ধক্যের কারণে কানে কম শুনতেন। এ কারণে তিনি ট্রেন আসার শব্দ শুনতে পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

ফেনী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান পৃথক দুটি স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই দুটি পৃথক ঘটনায় ফেনী রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

রেলপথে এমন দুর্ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। প্রায়শই অসতর্কতা, রেললাইন ধরে হাঁটা, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পারাপার এবং ট্রেনের হুইসেল উপেক্ষা করার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। রেললাইনকে নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার না করা এবং লেভেল ক্রসিং পারাপারে সতর্ক থাকা অত্যাবশ্যক। অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলোতে গেটম্যানের অভাব এবং রেললাইনের দু’পাশে বেড়া না থাকাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের উচিত রেললাইন বরাবর নিরাপত্তা বেড়া নির্মাণ, অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলোতে গেটম্যানের ব্যবস্থা করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা। একইসাথে, গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ রেলপথে হাঁটাচলার বিপদ সম্পর্কে অবগত থাকে এবং নিজেদের সুরক্ষায় সজাগ থাকে। এই দুটি মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও রেলপথে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছে।

এছাড়াও

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘বিব্রতবোধ’: সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট প্রশ্ন এড়ানোর আহ্বান, গণমাধ্যম মহলে বিতর্ক

ঢাকা: “এ সমস্ত প্রশ্ন করবেন না, খুব বিব্রতবোধ করি।” – একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অকস্মাৎ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *