বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই উচ্চপর্যায়ের সফর দুটি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারই করেনি, বরং বাংলাদেশের জন্য বিপুল বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পথ প্রশস্ত করেছে।
মালয়েশিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। এই আলোচনায় মূলত বাণিজ্য বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, পাম তেল আমদানি, এবং হালাল শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আগামী পাঁচ বছরে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে বিদ্যুৎ, সড়ক ও সেতু নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের শ্রমবাজার থেকে আরও দক্ষ কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচির প্রসারে আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, যা ছিল তাঁর সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর অধীনে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বৃহৎ প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বিশেষ করে, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ, রেলওয়ে আধুনিকীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।
প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও চীন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়ায় চীন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা দেবে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নেও নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে আরও গভীর করবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়েও উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে।
এই দুটি সফর বাংলাদেশের জন্য বহুমুখী সাফল্য বয়ে এনেছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গভীর করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরগুলো বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথ খুলে দিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে