হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে কেইন ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে কেইন ম্যাজিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের স্নায়ুচাপের ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন দেখাল ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়া ইংলিশরা শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে। ওয়েম্বলি কিংবা আল থুমামা—যেখানেই হোক না কেন, নকআউটের এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হলো। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডিআর কঙ্গো যখন নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়ে মাঠে নামে, তখন পুরো গ্যালারি জুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। ম্যাচের মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় ডিআর কঙ্গোর ফরোয়ার্ডরা ইংলিশ রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল করে এগিয়ে যায়। এরপর পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণের সামনে বারবারই ব্যর্থ হয়েছে। বিরতির পর কৌশল পরিবর্তন করেন ইংলিশ কোচ। মাঠে নামার পর থেকেই হ্যারি কেইন যেন নতুন উদ্যমে জ্বলে ওঠেন। খেলার ৬৮তম মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এই গোলটি যেন ইংলিশ শিবিরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। সমতায় ফেরার পর থেকেই ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায়। ম্যাচের শেষ দিকে যখন ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচটি, তখনই ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন কেইন। ৮৮তম মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের এমন নৈপুণ্য কেবল দলের জয় নিশ্চিত করেনি, বরং ভক্তদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়ার পরেও যেভাবে ছেলেরা হাল না ছেড়ে লড়াই করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গো বীরের মতো লড়েও অভিজ্ঞতার অভাব আর শেষ মুহূর্তের ভুলে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। তবে এই ম্যাচে কেইনের জোড়া গোল ফুটবল বিশ্বে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নকআউট পর্বের এমন কঠিন পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর এখন ইংল্যান্ডের লক্ষ্য শিরোপার দিকে। পরবর্তী লড়াইয়ে তারা কোন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে বর্তমান ফর্ম এবং কেইনের গোল করার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ইংল্যান্ড যে এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট, তা বলাই বাহুল্য।

এছাড়াও

রোনালদো বনাম মদরিচ: বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই কিংবদন্তির শেষ লড়াই?

রোনালদো বনাম মদরিচ: বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই কিংবদন্তির শেষ লড়াই?

ফুটবল বিশ্বের দুই চিরসবুজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদরিচ আবারও মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্বমঞ্চে। পর্তুগাল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *