বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উত্থান ও সাফল্যের নেপথ্যে যে কজন নিবেদিতপ্রাণ প্রশিক্ষক পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে শান্তিমনি চাকমা অন্যতম। ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও রুপনা চাকমার মতো তারকা ফুটবলারদের হাতেখড়ি যার হাত ধরে, সেই শান্তিমনি চাকমা বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে রাঙামাটির ঘাগড়া কলেজ মাঠে নারী ফুটবলারদের অনুশীলন করানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এই কোচ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মাঠের পাশে একটি দোকানে বসে ছিলেন তিনি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইসিজি করার পর চিকিৎসকেরা তাঁর হৃদ্যন্ত্রে গুরুতর জটিলতা শনাক্ত করেন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে তাৎক্ষণিক চট্টগ্রাম শহরে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার রাত ১০টার দিকে মেহেদীবাগ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর হৃদ্যন্ত্রের দুটি রক্তনালিতে ব্লকেজ ধরা পড়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রক্তনালি দুটি সচল করা হলেও আগামী ৭২ ঘণ্টা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেডিকেল বোর্ড।
শান্তিমনি চাকমা দীর্ঘ সময় ধরে রাঙামাটির ঘাগড়া এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নারী ফুটবলের প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘাগড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শান্তিমনি নামমাত্র বেতনে বা বিনা পারিশ্রমিকেই পাহাড়ি জনপদের মেধাবী কিশোরীদের ফুটবলের মূল ধারায় নিয়ে এসেছেন। ২০২২ সালে সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সদস্য ঋতুপর্ণা, মনিকা, রুপনা, আনাই ও আনুচিং মোগিনীদের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তিনিই। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নারী ফুটবলার তৈরির এই কারিগরের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবলপ্রেমী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন। মঘাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বীর সেন চাকমা জানান, শান্তিমনি চাকমার পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল নয়। এই কঠিন সময়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে তিনি দেশের ক্রীড়ামোদী ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাহাড়ের ফুটবলের এই নিভৃতচারী প্রশিক্ষকের দ্রুত সুস্থতা এখন সবার কাম্য।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে