বেলজিয়াম ও সেনেগালের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠের ফুটবলের চেয়েও বেশি আলোচিত হচ্ছে শেষ মুহূর্তের একটি বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্ত নিয়ে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের প্রায় শেষ প্রান্তে এসে ভিএআর (VAR)-এর সহায়তায় রেফারি সাইদ মার্তিনেজের দেওয়া পেনাল্টির সিদ্ধান্তটি সেনেগালের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেয়। অতিরিক্ত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে সেনেগালের মিডফিল্ডার লামিন কামারার স্লাইড ট্যাকলকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে লক্ষ্য করে করা ওই ট্যাকলটি কতটা ফাউল ছিল, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
মাঠের রেফারি সাইদ মার্তিনেজ প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির পরামর্শে সাইডলাইন মনিটরে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে রিপ্লে দেখার পর তিনি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে সেনেগালের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের মতে, এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি পাওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। এই ঘটনাটি অনেকের স্মৃতিতে ফিরিয়ে এনেছে গত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বিতর্কিত অধ্যায়, যেখানে শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের কারণে সেনেগালকে শিরোপা হারানোর মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার গ্যারি নেভিল এবং রয় কিন এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। রয় কিনের মতে, রেফারির সিদ্ধান্তটি ছিল অতিরঞ্জিত এবং মনিটরে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা রেফারির দ্বিধাগ্রস্ত মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে, সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত হার মেনে নেওয়া কঠিন। তিনি দাবি করেন, এই পেনাল্টিই তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের মূল কারণ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্পোর্টিং নিউজ’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওভারহেড ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে যে লামিন কামারার চ্যালেঞ্জটি সরাসরি টিলেমান্সের পায়ে আঘাত করেছে, যা ভিএআর প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যদিও বেলজিয়ামের জয়টি ৩-২ ব্যবধানে নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে, কিন্তু এই পেনাল্টি বিতর্ক ফুটবল অনুরাগীদের মনে রেফারিংয়ের মান ও ভিএআর প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর এই মুহূর্তটি সেনেগালের জন্য যেমন হতাশার, তেমনি আধুনিক ফুটবলে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের একটি বড় উদাহরণ হয়ে রইল।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে