যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছর পূর্তি বা সেমি-কুইন্সেটেনারি উদযাপনের জন্য গঠিত তহবিলকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও ব্যক্তিগত প্রকল্পের কাজে ব্যবহার করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটিক সদস্যদের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘ফ্রিডম ২৫০’ নামক একটি ট্রাম্প-সমর্থিত সংগঠনের মাধ্যমে দাতাদের বিভ্রান্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
কংগ্রেসের তদন্তকারী দলের ভাষ্যমতে, এই তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ। দাতাদের বোঝানো হয়েছিল যে সংগৃহীত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছর পূর্তির জাতীয় পর্যায়ের আয়োজনে ব্যয় করা হবে, কিন্তু বাস্তবে এই অর্থের একটি বড় অংশ ট্রাম্পের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই ঘটনাকে নিছক অব্যবস্থাপনা হিসেবে না দেখে এটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের অনুগতরা এই মহতী আয়োজনকে ঘিরে নিজস্ব ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলেরও চেষ্টা করেছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান এই আড়াইশ বছর পূর্তির আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, তবে তাদের পারিশ্রমিক বা কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে এই কাজ পেল এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের ধরন কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিতর্ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি দেশের জাতীয় পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে।
এদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলগুলো এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কংগ্রেসের নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বলছে, তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশ বছর পূর্তির মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে ঘিরে এই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক মেরুকরণের ঘটনা দেশটির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জনমনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় ঐক্যের এই প্রতীকী আয়োজন কি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের হাতিয়ারে পরিণত হবে?
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে