আক্কেলপুরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ: বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদকে শোকজ, তদন্ত কমিটি গঠন

আক্কেলপুরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ: বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদকে শোকজ, তদন্ত কমিটি গঠন

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে তার দল এবং একই সঙ্গে একটি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি।

জানা গেছে, গত ২১ জুন দুপুরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নিয়ে রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমানের সঙ্গে হারুনুর রশিদের কথা-কাটাকাটি হয়। প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিনই হারুনুর রশিদ তাকে জুতা দিয়ে মারধর করেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও জমা দেওয়া হয়।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে গত ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি বিস্তারিতভাবে তার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রথম আলোতে এই সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জনমনে ক্ষোভ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ মো. সাহিদুল আকরামের সই করা এক অফিস আদেশে হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ২১ জুনের কথা-কাটাকাটি এবং ২৬ জুনের সংবাদ সম্মেলন দলীয় নজরে এসেছে। এ ঘটনায় হারুনুর রশিদকে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

একই আদেশে অভিযোগটি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েলকে। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দল পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হারুনুর রশিদ বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং যথাসময়ে লিখিত জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন।

রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ইউনিয়ন বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রধান শিক্ষকের অভিযোগকে দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং হারুনুর রশিদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমলও গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে কারণ দর্শানোর নোটিশের অনুলিপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা জয়পুরহাটের রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও

গুম নিয়ে হাসিনার অনুশোচনা নেই, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার পাবে মাসিক ভাতা: মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর: বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *