অর্থবিলে সংশোধনী আনতে ব্যর্থ বিরোধী দল: কেন এটি জাতীয় সংসদে বিরল দৃষ্টান্ত?

অর্থবিলে সংশোধনী আনতে ব্যর্থ বিরোধী দল: কেন এটি জাতীয় সংসদে বিরল দৃষ্টান্ত?

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে সংসদ। বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের ৯১ জন সংসদ সদস্য সরব থাকলেও, অর্থবিল বা ফাইন্যান্স বিলের ওপর কোনো ধরনের দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব আনেননি তারা। সংসদীয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সাধারণত বাজেট আলোচনার পর অর্থবিলে শুল্ক বা কর কাঠামোতে পরিবর্তনের জন্য সংসদ সদস্যদের সুনির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব জমা দিতে হয়, যা এবার কেবল সরকারি দলের সদস্যদের পক্ষ থেকেই এসেছে।

সংসদীয় কার্যপ্রণালী অনুযায়ী, কোনো বিল পাস হওয়ার আগে তার বিভিন্ন ধারায় পরিবর্তনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিলেও, সুনির্দিষ্টভাবে কর বা শুল্ক পরিবর্তনের জন্য কোনো লিখিত সংশোধনী দেননি। ফলে, বাজেট আলোচনায় তারা মৌখিকভাবে নানা দাবির কথা জানালেও, তা আইনি প্রক্রিয়ায় অর্থবিলে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। উদাহরণস্বরূপ, বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান মৌখিক প্রস্তাব দিলেও, লিখিত প্রস্তাব না থাকায় বিল পাসের সময় তা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। যদিও পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে বিল পাসের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আনা যায়নি।

এই বিষয়ে বিরোধী দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বাজেটের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাব তুলে ধরা। তিনি দাবি করেন, বাজেটের মৌলিক অসংগতিগুলো ছোটখাটো সংশোধনী দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়, তাই তারা পুরো বিলটি জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব করেছিলেন। সরকারি দলের পক্ষ থেকে অবশ্য ১১ জন সদস্য ৬৪টি সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিলেন, যার সবকটিই গৃহীত হয়েছে এবং করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, অতীতে এমনটি কখনো দেখা যায়নি যে বিরোধী দল অর্থবিলে একটিও সংশোধনী প্রস্তাব দেয়নি। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সরকারের নীতিমালার ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করা, কিন্তু এবার তারা সেই সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিরোধী দলের এই কৌশল বা অসচেতনতা তাদের সংসদীয় ভূমিকার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম, যা এবারের বাজেট অধিবেশনে উপেক্ষিতই রয়ে গেল।

এছাড়াও

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবিতে রাজপথে শহীদ পরিবার ও জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর দ্রুত চালুর দাবিতে রাজপথে শহীদ পরিবার ও জুলাই রেভোল্যুশনারি অ্যালায়েন্স

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে সমুন্নত রাখতে প্রস্তাবিত ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালুর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *