ক্ষমতায় থাকাকালীন রেকর্ড আয়: ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও বিতর্কের নতুন মোড়

ক্ষমতায় থাকাকালীন রেকর্ড আয়: ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য ও বিতর্কের নতুন মোড়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালের প্রকাশিত বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় দফায় ফেরার প্রথম বছরেই ট্রাম্প অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এই বিপুল পরিমাণ আয় মার্কিন রাজনীতির দীর্ঘদিনের নৈতিক চর্চা ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানোর নীতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অতীতে হ্যারি ট্রুম্যান বা জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো প্রেসিডেন্টরা যেখানে ব্যক্তিগত সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের মধ্যে কঠোর দেয়াল তুলে রেখেছিলেন, সেখানে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও সরকারি নীতি নির্ধারণের মধ্যে স্পষ্ট কোনো বিভাজন রেখা খুঁজে পাওয়া দায় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্পের এই আকাশচুম্বী আয়ের একটি বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা খাত থেকে। সরকারি নথিপত্র বলছে, শুধুমাত্র ক্রিপ্টো ব্যবসা ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকেই তাঁর কোম্পানিগুলো প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে। এছাড়া নিজের নামে প্রচলিত ‘ট্রাম্প মেমে কয়েন’ বিক্রি থেকেও এসেছে ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ক্রিপ্টো বাজারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করায় এই বিশাল মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে অর্থনীতিবিদদের অভিমত। ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার সেন্টারের ইতিহাসবিদ বারবারা পেরি এই ঘটনাকে মার্কিন ইতিহাসের নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির পাশাপাশি ট্রাম্পের গলফ কোর্স ও রিসোর্টগুলো থেকেও বিপুল আয় অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে মার-এ-লাগো রিসোর্টসহ বিভিন্ন গলফ ক্লাবের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে যেসব ক্লাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি নিয়মিত সময় কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর আবাসন ব্যবসার প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে থাকলেও সামগ্রিক আয় বেড়েছে। এই বিপুল আয়ের উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবার কোনো স্বার্থের সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মার্কিন জনগণের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন নীতি ও নির্বাহী আদেশ তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসার প্রসারে সহায়ক হয়েছে, যা মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে তাঁর সন্তানেরা ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখভাল করছেন, কিন্তু এর মূল সুবিধাভোগী ট্রাম্প নিজেই। এই বিশাল আর্থিক বিবরণী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য নির্ধারিত নৈতিক মানদণ্ড ও সরকারি স্বচ্ছতার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের দ্বার উন্মোচন করেছে।

এছাড়াও

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬ দিন: অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬ দিন: অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতায় বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এক অভাবনীয় ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসী। দেশটিতে শক্তিশালী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *