তীব্র গরমে শিশুদের ঘামাচি সমস্যা: কারণ ও প্রতিকারে করণীয়

তীব্র গরমে শিশুদের ঘামাচি সমস্যা: কারণ ও প্রতিকারে করণীয়

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন শিশুদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। গরমের মৌসুমে শিশুদের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর একটি হলো ঘামাচি। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খানের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমকালে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া স্বাভাবিক হলেও, শিশুদের ক্ষেত্রে এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। মূলত ত্বকের ঘর্মগ্রন্থিগুলো বড়দের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত না হওয়ায় ঘাম বের হওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি হয় এবং তা গ্রন্থির ভেতরেই আটকে গিয়ে ঘামাচির জন্ম দেয়। এছাড়া শিশুদের কর্মচাঞ্চল্য এবং খেলার ছলে ত্বকের ওপর ধুলোবালি ও ময়লা জমে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘামাচির অন্যতম প্রধান কারণ।

ঘামাচি প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। কৃত্রিম তন্তু বা সিন্থেটিক কাপড়ের পরিবর্তে হালকা ও নরম সুতি কাপড় বেছে নেওয়া উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং শরীর ঠান্ডা থাকে। আঁটসাঁট পোশাক এড়িয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরানোই শ্রেয়। এছাড়া গরমে দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ প্লাস্টিক স্তরের ডায়াপার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ঘামাচির উপদ্রব বাড়াতে পারে। খেলার পর শরীর ময়লা হলে দ্রুত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনে শিশুকে গোসল করিয়ে নেওয়া ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।

চিকিৎসকদের মতে, ঘামাচি খুব ভয়াবহ কোনো রোগ নয় এবং সাধারণত বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই এটি সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত চুলকানি থেকে ত্বকে ক্ষত বা সংক্রমণ হতে পারে। ঘামাচি হলে আক্রান্ত স্থানে বরফ পেঁচিয়ে আলতো করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে, যা শিশুকে সাময়িক আরাম দেবে। মৃদু ঠান্ডা পানিতে গোসল করানোও বেশ কার্যকর। তবে এই সময়ে কোনো ভারী ময়েশ্চারাইজার, তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা একদমই অনুচিত, কারণ এগুলো ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ করে সমস্যার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ফার্মেসি থেকে কোনো মলম বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম কেনা থেকে বিরত থাকা। এগুলো শিশুর ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে এবং ভুলবশত মুখে চলে গেলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। যদি ঘামাচির স্থানে পুঁজ জমে, জ্বালাপোড়া অসহনীয় হয়ে ওঠে কিংবা শিশুর জ্বর আসে, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সঠিক পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে গরমের এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে শিশুদের সহজেই রক্ষা করা সম্ভব।

এছাড়াও

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ: ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ: ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট নতুন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *