ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে সৈকত হাসান নামে এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে দুই ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুদ্দিন এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ভাইয়ের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। একই মামলায় ওই কিশোরীর বাবা ও চাচাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসানের সঙ্গে স্থানীয় এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিষয়টি ওই কিশোরীর পরিবারের নজরে এলে তারা চরম ক্ষুব্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে সৈকতকে কৌশলে ডেকে কিশোরীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সৈকত যাওয়ার আগে বিষয়টি তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিল, যা পরবর্তীতে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে উঠে আসে। এরপর থেকে সৈকত নিখোঁজ হলে স্বজনরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। ঘটনার দুই দিন পর, ২১ মে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় সৈকতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ১৪ জানুয়ারি কিশোরীর বাবা, চাচা ও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কৌঁসুলি আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম খান।
আদালত পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও একজন পলাতক রয়েছেন। আদালত দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, অসহিষ্ণুতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতি চরম বিদ্বেষ থেকে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটে, যা আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা জরুরি। এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে