ফুটবল মাঠের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকে, কিন্তু কখনো কখনো কোনো ম্যাচ ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে মানবিক আবেগ। পর্তুগালের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাম্প্রতিক এক ম্যাচ ঠিক তেমনই এক আবেগী মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইল। পর্তুগালের এক সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার জোতার প্রয়াণের এক বছর পূর্তিতে পুরো পর্তুগাল দল এবং বিশেষ করে অধিনায়ক রোনালদো তাকে স্মরণ করলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে। মাঠে জোতা উপস্থিত না থাকলেও, তার অনুপস্থিতি ছিল প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গী।
ম্যাচ শুরুর আগে গা গরমের সময় রোনালদোর একাগ্রতা এবং সতীর্থদের সাথে তার মিথস্ক্রিয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে মাঠের লড়াইয়ে পর্তুগাল অধিনায়ককে কিছুটা ছন্নছাড়া মনে হচ্ছিল। গোলের সুযোগ তৈরি করেও যখন বল জালে জড়াতে পারছিলেন না, তখন রোনালদোর চেহারায় ফুটে উঠছিল হতাশা। এমনকি অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হওয়া এবং পেনাল্টি থেকে গোল করার পরও তার চিরচেনা সেই ‘সিউ’ উদযাপনে ছিল কিছুটা বিষণ্নতার ছাপ। যেন ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় কোনো চিন্তা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ম্যাচ শেষে কোচ মার্তিনেজ যখন রোনালদোকে মাঠ থেকে তুলে নিচ্ছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল যেন কোনো এক অদৃশ্য ভার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
ম্যাচের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি আসে খেলা শেষে। গ্যালারি থেকে এক ভক্ত মাঠে ঢুকে পড়লে পরিবেশ কিছুটা সরগরম হয়ে ওঠে, তবে মূল মনোযোগ ছিল রোনালদোর দিকে। তিনি জোতার ২১ নম্বর জার্সিটি উঁচিয়ে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। যেন আকাশের অসীম নীলিমায় তিনি খুঁজছিলেন সেই সতীর্থকে, যিনি আজ না থেকেও পর্তুগিজ ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুরো দল মিলে জোতার স্মৃতির প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করল, তা ফুটবল বিশ্বের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রোনালদোর এই নীরব বার্তা—‘তুমি আমাদের সাথেই আছো’—স্টেডিয়ামের হাজারো দর্শকের চোখে জল এনে দিয়েছিল। মাঠের লড়াই শেষ হলেও, জোতার প্রতি রোনালদোর এই ভালোবাসা দীর্ঘকাল ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে