মাদারীপুর শহরের প্রশিসেস প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মৌসুমি ফল উৎসব। মাদারীপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেড় শতাধিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরকে নানা স্বাদের মৌসুমি ফল খাইয়ে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে বাজারে সব ধরনের ফলের চড়া দামের কারণে সুবিধাবঞ্চিত এসব পরিবারের শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ফল কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে বন্ধুসভার সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে আম, জাম, কাঁঠাল, লটকন, পেয়ারা ও কলার মতো সুস্বাদু ফল সংগ্রহ করে শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন।
গত ৩০ জুন বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার দীপ্তি এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মানসিক বিকাশে এবং তাদের আনন্দ প্রদানে এমন মানবিক আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুসভার উপদেষ্টা চিকিৎসক অখিল সরকার, এনায়েত হোসেন নান্নু, মকবুল হোসেন ও সোহেল রানাসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রথম আলোর মাদারীপুর প্রতিনিধি অজয় কুণ্ডু এবং প্রবাসী ভিআইপি ক্লাবের প্রধান সমন্বয়ক শফিক খানসহ অন্যরা শিশুদের সাথে সময় কাটান এবং তাদের হাতে ফল তুলে দেন।
মাদারীপুর বন্ধুসভার সভাপতি আঞ্জুমান জুলিয়া জানান, প্রতিবছর জুন মাসে সংগঠনটি বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য ফল উৎসবের আয়োজন করে থাকে। কখনো আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের নিয়ে, আবার কখনো পথশিশুদের নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এবার তারা বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের বেছে নিয়েছেন যাতে তাদের মুখে হাসি ফোটানো যায়। তিনি আরও জানান, শুধু ফল উৎসব নয়, বরং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বন্ধুসভা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সাধারণ সম্পাদক এইচ এম হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন, শিশুদের সাথে বসে এই ফল উৎসব উদযাপন করা তাদের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি। এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ সমাজে মানবিক মূল্যবোধের চর্চাকে আরও বেগবান করবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে