বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক: ইংল্যান্ডের ছন্দে বাধা নাকি টুখেলের কৌশলী ব্যর্থতা?

বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক: ইংল্যান্ডের ছন্দে বাধা নাকি টুখেলের কৌশলী ব্যর্থতা?

ফুটবলের মাঠে জয়ের মূলমন্ত্র হলো ধারাবাহিক ছন্দ এবং মনোযোগের ভারসাম্য। তবে এবারের বিশ্বকাপে টমাস টুখেলের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল যেন এক অদ্ভুত সমস্যার জালে আটকা পড়েছে। মাঠের খেলায় প্রতিপক্ষের কৌশল বা খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ভুল নয়, বরং ফিফার নির্ধারিত ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতিই ইংলিশদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ম্যাচের প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে যখনই খেলা থামিয়ে পানি পানের সুযোগ দেওয়া হয়, ঠিক তার পরের কয়েক মিনিটেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মনোযোগের চরম বিচ্যুতি ঘটছে। কঙ্গোর বিপক্ষে নকআউট পর্বের লড়াইয়েও এই একই চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে বিরতির পর প্রতিপক্ষকে চেপে বসার সুযোগ করে দিয়ে দলটি বারবার চাপের মুখে পড়ছে।

এই সমস্যার শিকড় কেবল বর্তমান টুর্নামেন্টেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রস্তুতি পর্বের ম্যাচগুলোতেও ইংল্যান্ডের ডিফেন্সকে একইভাবে খাবি খেতে দেখা গেছে। এমনকি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেডিয়াম কিংবা বৃষ্টির দিনেও যখন এই বিরতি দেওয়া হয়, তখন তা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মোমেন্টাম নষ্ট করে দিচ্ছে। শুরুতে টমাস টুখেল এই বিরতিকে দলের কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখলেও, এখন তিনি নিজেই এর কড়া সমালোচক। তার মতে, ফুটবলের গতিময়তা ধরে রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ, আর বারবার খেলা থামিয়ে সেই ছন্দ নষ্ট করা হচ্ছে।

তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করেন, কেবল হাইড্রেশন ব্রেক নয়, ইংল্যান্ডের বড় তারকাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারাটাও চিন্তার কারণ। হ্যারি কেইন ছাড়া দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই নিজেদের সেরাটা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিশ্বকাপের পরিবর্তিত ফরম্যাট এবং টানা ভ্রমণের ক্লান্তি খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাউন্ড অব ৩২-এ প্রতিটি ম্যাচই এখন নকআউটের মতো কঠিন, যেখানে সামান্যতম ভুলও ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।

ফিফার এই বিতর্কিত নিয়ম নিয়ে গ্যালারির দর্শকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিরতির সময় বিজ্ঞাপন প্রচার করে মুনাফা অর্জন করলেও, মাঠে খেলা দেখা দর্শকরা বারবার ছন্দপতনের কারণে হতাশ। ইংল্যান্ডের কোচিং স্টাফরা এখন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন পরিকল্পনার দিকে ঝুঁকছেন। ক্যানসাস সিটির বেজক্যাম্প থেকে আসা খবর অনুযায়ী, পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য বিশেষ মানসিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই হাইড্রেশন ব্রেকের গোলকধাঁধা কাটিয়ে টুখেলের শিষ্যরা বিশ্বকাপে নিজেদের হারানো ছন্দ ফিরে পেতে পারেন কি না।

এছাড়াও

ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার

ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনি গোলরক্ষক সালিম আল-আশকার

গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে আবারও শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গনে। দখলদার বাহিনীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *