সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ এবং এই খাত থেকে অর্জিত বিশাল মুনাফা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার আয় করেছেন, তখন তার এই প্রকল্পের সাথে যুক্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সিএনএন ও পিবিএস-সহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় হয়েছে, যেখানে সাধারণ অন্তত ১০ লাখ বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এই ঘটনাকে অনেকে ক্রিপ্টো জগতের ভাষায় ‘রাগ পুল’ বা প্রতারণামূলক কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন অর্থনীতে বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ রস গারবার ট্রাম্পের এই কর্মকাণ্ডকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন, সেখানে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের এমন অভূতপূর্ব মুনাফা অর্জন নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও কৌশলবিদ স্কট বেসেন্ট এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ট্রাম্পের এই আয়ের মধ্যে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত বা নৈতিক বিচ্যুতি নেই। বেসেন্টের মতে, এটি একটি মুক্তবাজারের লেনদেন এবং এর সাথে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিপুল ব্যক্তিগত অর্জন সত্ত্বেও তার সমর্থক গোষ্ঠী বা ‘মাগা’ (MAGA) বেস এই বিষয়ে নীরবতা পালন করছে। সাধারণত যেকোনো অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরব থাকা এই সমর্থক গোষ্ঠীটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মুনাফার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের আয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোয় প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠছে। হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন সময়ে বা তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজের ব্যবসা প্রসারিত করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে এখন ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারের অস্থিরতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির অভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই প্রতারণার শিকার হন। ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা এই বাজারকে আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এই বিশাল আয়ের উৎস এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে নামে কি না। নৈতিকতার এই বিতর্ক মার্কিন রাজনীতির অঙ্গনে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে