যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল জুড়ে এক ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে, যা দেশটির স্বাধীনতা দিবস বা ফোর্থ অব জুলাইয়ের উৎসবের আমেজকে ম্লান করে দিয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র দাবদাহে নিউ ইয়র্কসহ দেশটির বড় বড় শহরগুলোর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। ওয়াশিংটন ডিসিসহ আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই অস্বাভাবিক গরমের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্কতা জারি করতে হয়েছে।
তীব্র এই তাপপ্রবাহের কারণে কেবল জনজীবনই নয়, বরং পরিবহন ব্যবস্থাতেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। প্রচণ্ড তাপে রেললাইন ও সড়কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এছাড়া এই সময়ে চলমান বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট, বিশেষ করে ফুটবল ম্যাচগুলোর সময়সূচিও নতুন করে সাজাতে হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বয়স্ক, শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক শহর কর্তৃপক্ষ ‘কুলিং সেন্টার’ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে, যেখানে মানুষ অসহনীয় গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়ছে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটির প্রাক্কালে যখন মানুষ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছে, তখন এই আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাদের ভ্রমণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা কমেছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় গ্রিডের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো লোডশেডিং এড়াতে নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাসিন্দাদের পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি সরাসরি সূর্যের আলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে পুরো পূর্বাঞ্চল এক প্রকার জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে