ভারী বর্ষণে আবারও নাকাল চট্টগ্রাম: সপ্তাহের শুরুতেই চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

গত সপ্তাহের ভোগান্তি কাটতে না কাটতেই আবারও ভারী বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রবিবার সকাল থেকেই শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ নগরবাসী। এই পুনরাবৃত্ত জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা প্রতি বর্ষাতেই প্রকট আকার ধারণ করে।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও এবং নিচু এলাকাগুলো হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ডুবে যায়। প্রধান সড়কগুলো থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত সর্বত্রই ছিল জলমগ্ন। এতে গণপরিবহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটায়। অনেক যানবাহনকে বিকল অবস্থায় রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। কর্মস্থলে যেতে গিয়ে অনেকে চরম ভোগান্তির শিকার হন, বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ও দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীলরা।

চট্টগ্রামের এই জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন নয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এটি একটি নিয়মিত চিত্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাব, খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়া, এবং কর্ণফুলী নদীর নাব্যতা হ্রাস এই সমস্যার প্রধান কারণ। নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বহু পুরনো এবং আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া, নগরের বিভিন্ন স্থানে খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ এবং বর্জ্য ফেলে ভরাট করার কারণে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা (CWASA) সহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তার সুফল এখনও পুরোপুরি মেলেনি। সিডিএ’র অধীনে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প চলমান থাকলেও তার ধীরগতি এবং নকশার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় খাল ও নালা বন্ধ করে কাজ করার ফলে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে। এছাড়া, জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি বাড়লে এবং একই সাথে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, কারণ তখন বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতে পারে না।

নগরীর বাসিন্দারা এই পুনরাবৃত্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, সেগুলোর সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এই সমস্যা কেবল নাগরিক দুর্ভোগই বাড়ায় না, শহরের অর্থনীতি এবং জনস্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাণিজ্যিক এই শহরের গতি সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়াও

মাতামুহুরী নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, দিশেহারা চকরিয়ার শত শত পরিবার

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া এলাকায় মাতামুহুরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। অতিবৃষ্টি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *