মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় পুরো অঞ্চল জুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়া এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এখন আর কার্যকর নয় বা এর মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর আগে ট্যাংকার হামলার মতো ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করেছে, যা ইরানকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের সামরিক উসকানি কেবল দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকিই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা তাদের মিত্রদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, তাদের এই হামলা মূলত আত্মরক্ষামূলক এবং ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য করা হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা বৈশ্বিক তেলের বাজারের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বর্তমানে বিশ্বনেতারা উভয় পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে সামরিক শক্তির প্রদর্শনীই এখন প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উসকে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যস্থতায় এই উত্তেজনা প্রশমিত হয়, নাকি অঞ্চলটি আরও বড় কোনো যুদ্ধের দিকে ধাবিত হয়।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে