প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সন্তানের অতি-প্রশ্রয় কি ভবিষ্যতের জন্য হুমকি?

প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সন্তানের অতি-প্রশ্রয় কি ভবিষ্যতের জন্য হুমকি?

ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে আমাদের জীবনযাত্রা ও চিন্তাধারায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নতুন প্রজন্মের ওপর। বর্তমান সময়ের শিশুরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তি সচেতন, আবেগপ্রবণ এবং যুক্তিনির্ভর। কিন্তু এই প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীতে সন্তানের লালন-পালন বা প্যারেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকরা কতটা ভারসাম্য বজায় রাখছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন এক আলোচনার ক্ষেত্র। সম্প্রতি প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনলাইন মাদকবিরোধী পরামর্শ সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান বর্তমান সময়ের প্যারেন্টিং নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন।

আলোচনায় ডা. ফারজানা রহমান উল্লেখ করেন, বর্তমানের শিশুরা ভার্চুয়াল জগতের প্রভাবে দ্রুত আবেগপ্রবণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির কল্যাণে যেকোনো ভালো লাগা বা মন্দ লাগার অনুভূতি মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক গঠনকে প্রভাবিত করছে। অভিভাবকরা এখন অনেক বেশি ধৈর্যশীল এবং সন্তানের কথা শোনার মানসিকতা পোষণ করেন—এটি অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এই সহনশীলতার আড়ালে যখন অতি-প্রশ্রয় বা সব আবদার বিনা বিচারে মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, তখনই বিপদ বাড়ে। বিশেষজ্ঞের মতে, অভিভাবকত্ব কেবল ভালোবাসা বা শোনার নাম নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব। সন্তানের প্রতিটি অন্যায় আবদার বা ভুল আচরণকে ‘সহনশীলতা’র নামে প্রশ্রয় দিলে তা দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক দৃঢ়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই ‘না’ শোনার মানসিকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। সবকিছুতে অতিমাত্রায় নমনীয়তা বা সহনশীলতা প্রদর্শন করলে সন্তানরা বাস্তব জীবনের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে ভয় পায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতি-প্রশ্রয়ের কারণে সন্তানরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে এবং তাদের মধ্যে সহনশীলতা বা ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাই বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য ভালোবাসা ও শাসনের সঠিক মিশ্রণই এখন সবচেয়ে জরুরি। ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তুলতে।

এছাড়াও

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ: ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে মিডওয়াইফ পদে নিয়োগ: ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির সুযোগ

দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট নতুন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *