ফ্রান্সে মানবপাচারের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন যুক্তরাজ্যে: আশ্রয়ের আবেদন ঘিরে তোলপাড়

ফ্রান্সে মানবপাচারের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি এখন যুক্তরাজ্যে: আশ্রয়ের আবেদন ঘিরে তোলপাড়

ফ্রান্সের অভিবাসী ক্যাম্পগুলোতে একসময় ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত এক মানবপাচারকারী এখন যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বিবিসি’র এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই তথ্যটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি ফ্রান্সে মানবপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও কীভাবে যুক্তরাজ্যের মাটিতে পা রাখতে সক্ষম হলেন এবং সেখানে আশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তা নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে উত্তর ফ্রান্সে অভিবাসীদের নিয়ে সক্রিয় অপরাধী চক্রের মূল হোতা হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে নৌকায় করে বিপজ্জনকভাবে ইংলিশ চ্যানেল পারাপারের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। ফরাসি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও, তিনি কারাদণ্ড এড়াতে বা পরবর্তী সময়ে দেশত্যাগ করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে সমর্থ হন। বিবিসি’র নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি গ্রামে সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে কাজ করছেন।

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক যদি নিজ দেশে বা অন্য কোনো দেশে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হন, তবে তাদের আশ্রয়ের আবেদন সাধারণত নাকচ হওয়ার কথা। কিন্তু এই ব্যক্তি আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। বর্তমানে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একক কোনো ঘটনা নয়, বরং ইউরোপজুড়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলোর অবাধ বিচরণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।

এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন চিহ্নিত অপরাধী দেশটিতে প্রবেশ করে আইনি সুরক্ষা চাওয়ার সাহস পান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দল ও অভিবাসন বিরোধী গোষ্ঠীগুলো। এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, মানবপাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যদি এভাবেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় পেতে শুরু করে, তবে তা ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

এছাড়াও

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬ দিন: অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে ৬ দিন: অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতায় বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় এক অভাবনীয় ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ববাসী। দেশটিতে শক্তিশালী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *