কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ৮

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ৮

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ভয়াবহ এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত আটজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। কয়েক দিন ধরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে আসছিলেন যে, রাশিয়া একটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই আশঙ্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভের আকাশপথ লক্ষ্য করে চালানো এই সমন্বিত আক্রমণ শহরটিতে চরম আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করেছে।

হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিয়েভ প্রশাসন জানিয়েছে, মূলত আবাসিক এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। রুশ বাহিনী একই সঙ্গে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। এতে বহুতল ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মস্কো ইউক্রেনীয়দের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, তারা তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত করেছে এবং সব লক্ষ্য অর্জন করেছে। তবে কিয়েভ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে নিরপরাধ মানুষের ওপর হামলা বলে উল্লেখ করেছে।

এই হামলার ফলে ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শীতের শুরুতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর রুশ বাহিনীর এই আক্রমণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানিয়েছেন, জরুরি সেবা কর্মীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন যাতে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়। তবে আকাশপথে হামলার আতঙ্ক এখনও কাটেনি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই আগ্রাসী মনোভাব চলমান যুদ্ধকে আরও দীর্ঘায়িত করবে এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে। বিশ্বনেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও বর্তমানে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এছাড়াও

লুকানো ফি আদায়ের দায়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে ট্রাভেল অ্যাপ হপার

লুকানো ফি আদায়ের দায়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে ট্রাভেল অ্যাপ হপার

ভ্রমণকারীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে ফি আদায়ের অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে জনপ্রিয় ট্রাভেল অ্যাপ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *