বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শেষ ৩২-এর সূচি। ফুটবল বিশ্বের নজর এখন ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালের দিকে। গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স এবং নকআউট ড্রয়ের বিন্যাস অনুযায়ী, শিরোপা জয়ের দৌড়ে থাকা দলগুলোর জন্য পথটা মসৃণ নয়। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর জন্য প্রতিটি ম্যাচ এখন অগ্নিপরীক্ষার সমান।
আর্জেন্টিনার জন্য নকআউটের যাত্রা শুরু হচ্ছে কেপ ভার্দেকে দিয়ে। এবারের বিশ্বকাপে আফ্রিকার এই ছোট দেশটির পারফরম্যান্স ছিল বিস্ময়কর; তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে রুখে দিয়ে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেছে। তবে মেসিদের জন্য এই বাধা খুব বড় চ্যালেঞ্জ না হওয়ারই কথা। আর্জেন্টিনা যদি শেষ ১৬ এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের পথটা কাগজে-কলমে কিছুটা বন্ধুর। শেষ ৩২-এ জাপানকে হারানোর পর, শেষ ১৬-তে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ আইভরিকোস্ট বা নরওয়ে। নরওয়ের বর্তমান ফর্ম ব্রাজিলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেলেসাওদের। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড একই অর্ধে থাকায় ফাইনালের আগেই তাদের মধ্যে বড় কোনো লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূচির অন্য অর্ধে লড়াইটা আরও বেশি তীব্র। ফেবারিট ফ্রান্সের সামনে বড় বাধা জার্মানি। যদি এমবাপ্পেরা এই বাধা পার করতে পারেন, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের পথ এখন অনেক বেশি কণ্টকাকীর্ণ। নকআউটের শুরুতেই তাদের লড়তে হচ্ছে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে, আর এরপরই তাদের সামনে আসতে পারে স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগ।
সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যেন এক গোলকধাঁধা। একপাশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল-ইংল্যান্ড এবং অন্যপাশে ফ্রান্স-স্পেন-পর্তুগাল—এই বিভাজন ফুটবল প্রেমীদের জন্য উপহার দিতে যাচ্ছে দারুণ সব রোমাঞ্চকর ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত কারা ফাইনালে জায়গা করে নেবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে