বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে এক নক্ষত্রপতন ঘটল। খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী, বরেণ্য পাপেট ব্যক্তিত্ব এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন শিল্পকলার বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি মূলত বাংলাদেশে পুতুল নাটকের নতুন রূপকার হিসেবে সমাদৃত। শিশু-কিশোরদের কাছে তিনি ছিলেন পরম বন্ধু, ‘পাপেটম্যান’ হিসেবে তাঁর পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। টেলিভিশন নাটকে পুতুল নাটকের ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে সামাজিক বার্তা প্রচারের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। আশির দশকে তাঁর নির্মিত পুতুল নাটকের অনুষ্ঠানগুলো ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়, যা কেবল বিনোদন নয়, বরং শিক্ষা ও সচেতনতা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
১৯৩৫ সালে জন্মগ্রহণকারী এই শিল্পী কর্মজীবনে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনসহ শিল্পকলার প্রসারে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী। শিল্পীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন।
হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি জটিল রোগগুলো তাঁর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছিল। শেষ কয়েকদিন তিনি হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। শিল্পীর মৃত্যুতে শোকের মাতম এখন তাঁর অনুরাগী ও প্রিয়জনদের মাঝে। তাঁর রেখে যাওয়া শিল্পকর্ম এবং দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে