বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বের উত্তাপ শুরু হয়ে গেছে। নকআউট মানেই অগ্নিপরীক্ষা, যেখানে একটি ভুল বা একটি হারের মানেই হলো টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। এই কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আজ শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছে জাপানের। ম্যাচের গুরুত্ব অনুধাবন করেই ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি এই লড়াইকে দেখছেন ‘ফাইনাল’ হিসেবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নকআউট পর্বে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা পুরো দল সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি। খেলা অতিরিক্ত সময় বা পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়ালেও আমাদের শিষ্যরা প্রস্তুত। এই ম্যাচটি আমাদের কাছে ফাইনালের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।’ ব্রাজিল দলের বড় শক্তির জায়গা তাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা, যারা ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত এমন হাই-ভোল্টেজ নকআউট ম্যাচ খেলার অভ্যস্ত। কোচ মনে করেন, এই অভিজ্ঞতাই তাদের বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে সহায়তা করবে।
প্রতিপক্ষ জাপান সম্পর্কেও যথেষ্ট সমীহ রয়েছে ব্রাজিল কোচের। তিনি জানান, জাপান একটি সুশৃঙ্খল দল এবং তাদের সম্মান জানিয়েই মাঠে নামতে হবে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল কিছুটা ধীরগতিতে শুরু করলেও, সময়ের সাথে সাথে তাদের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ আসা সেলেসাওরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দলের অধিনায়ক মার্কিনিওস বলেন, ‘শুরুটা আমাদের প্রত্যাশামতো না হলেও এখন আমরা অনেক বেশি গুছিয়ে নিয়েছি। নকআউট পর্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।’
ব্রাজিলের ভক্তদের মনে এখন বড় প্রশ্ন, তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার এই ম্যাচে কতটা সময় মাঠে থাকবেন। এ বিষয়ে আনচেলত্তি কৌশলগত গোপনীয়তা বজায় রাখলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ওপরই আস্থা রাখছেন বেশি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত ফর্ম এবং অভিজ্ঞ মিডফিল্ডের সমন্বয়ে ব্রাজিল জাপানের বিপক্ষে তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া। জাপানের মতো কৌশলী দলের বিপক্ষে এই লড়াইয়ে জয় পেতে হলে ব্রাজিলকে তাদের সেরাটা দিতেই হবে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন মাঠের লড়াইয়ের দিকে, যেখানে শেষ পর্যন্ত কারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে