বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বজুড়ে এক মহোৎসব, যা চার বছর অন্তর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন তোলে। বর্তমান সময়ে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা। এই কাকতালীয় সময়সূচি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শিক্ষাগত জীবনের ওপর এক ধরনের অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করছে। শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লেখক মাহফুজার রহমান তুলে ধরেছেন সেই সময়কার কথা, যখন টেলিভিশন ছিল দুষ্প্রাপ্য এবং একটি সাদাকালো টিভির পর্দায় খেলা দেখার জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দেওয়া ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। সেই সময়ের সেই তীব্র আবেগ আজও ফুটবল ভক্তদের মনে একইভাবে বিদ্যমান।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং বিশাল পর্দার প্রজেক্টরে খেলা দেখার সুযোগ থাকায় ফুটবল উন্মাদনা আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। মেসি, নেইমার, এমবাপ্পে বা রোনালদোর মতো তারকাদের খেলা দেখার জন্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা কাজ করে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অনেক শিক্ষার্থীই এই সময়ে পড়াশোনার টেবিলে মনোনিবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছে। লেখকের মতে, ফুটবল বিশ্বকাপের মতো এমন বৈশ্বিক উৎসবের সময় একাডেমিক পরীক্ষাগুলোর সূচি নির্ধারণে আরও নমনীয় হওয়া প্রয়োজন ছিল। অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষার চেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়ের খেলা দেখাটিকে জীবনের বড় প্রাপ্তি মনে করছে, যা তাদের মানসিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
শিক্ষাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার সূচি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা এবং তাদের পারিপার্শ্বিক আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যদি পরীক্ষাগুলো বিশ্বকাপের আগেই সম্পন্ন করা যেত, তবে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্ত মনে এই বিশ্ব উৎসব উপভোগ করতে পারত। এটি কেবল একটি খেলার বিষয় নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের আবেগ ও মনোযোগের ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্ন। শিক্ষা প্রশাসনের উচিত ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় বৈশ্বিক ইভেন্টের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে একাডেমিক সূচির সমন্বয় ঘটানো, যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা তাদের বিনোদনের অধিকার থেকেও বঞ্চিত না হয়। ভারসাম্যপূর্ণ এই পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে