টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ভারত। টানা দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অপরাজেয় থাকার রেকর্ড ছিল তাদের নামের পাশে। তবে সেই দাপুটে ভারতকে মাটিতে নামিয়ে এনেছে র্যাঙ্কিংয়ের ১১ নম্বর দল আয়ারল্যান্ড। বেলফাস্টে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ১ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে আইরিশরা। এই পরাজয়ের মাধ্যমে ভারতের টানা ১৬টি সিরিজ জয়ের অজেয় যাত্রায় ছেদ পড়ল।
ম্যাচটিতে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ১৫৪ রান। জয়ের জন্য ১৫৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই আইরিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে পড়েন। ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ২০ রান। শেষ বলে প্রিন্স যাদব ছক্কা হাঁকালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৫৩ রানে থামে ভারতের ইনিংস। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বাধীন ভারত ৩৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছিল।
পরিসংখ্যান বলছে, এই সিরিজের আগে ভারতের বিপক্ষে আটটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে প্রতিটিতেই হেরেছিল আয়ারল্যান্ড। এমনকি আয়ারল্যান্ড দলের কোনো বোলারেরই ভারতের বিপক্ষে উইকেট শিকারের অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ সেই দলটিই এবার ভারতকে ধারাবাহিকভাবে চাপে রেখে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল। অন্যদিকে, ভারত এই সফরে আসার আগে তাদের শেষ তিন আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ২৫৬, ২৫৩ ও ২৫৫ রানের মতো পাহাড়সম স্কোর গড়েছিল। সেই একই শক্তির দলটি আইরিশ কন্ডিশনে দেড় শর গণ্ডি পেরোতেই হিমশিম খেল।
ভারতের এই সিরিজ হারের ফলে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তরুণ প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীকে এই সিরিজে দলে ডাকা হলেও তাকে মাঠে নামানোর সুযোগ হয়নি। সব মিলিয়ে, আয়ারল্যান্ডের এই জয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দলগুলোর বিপক্ষে ছোট দলগুলোর অদম্য মানসিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে