প্রযুক্তির উৎকর্ষে যখন পুরো বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর জয়গানে মুখর, ঠিক তখনই এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড মোটর কোম্পানি। অতি-নির্ভরশীলতার ফলে জটিল প্রকৌশলগত সমস্যা সমাধানে এআই ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন তাদের অভিজ্ঞ ‘গ্রে বিয়ার্ড’ বা প্রবীণ প্রকৌশলীদের পুনরায় নিয়োগ দিচ্ছে। ফোর্ড কর্তৃপক্ষের মতে, শুধুমাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে উচ্চমানের পণ্য উৎপাদন সম্ভব—এই ধারণাটি ছিল ভুল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটোমোবাইল শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। সফটওয়্যারচালিত গাড়ির চাহিদাও বেড়েছে বহুগুণ। ফোর্ডসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এআই এবং অটোমেশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গাড়ির হার্ডওয়্যার এবং যান্ত্রিক সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সমাধানে এআই এখনও মানুষের অভিজ্ঞতার সমকক্ষ নয়। ফোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর অতিরিক্ত আস্থার কারণে তারা প্রকৌশলগত উৎকর্ষের মৌলিক জায়গাটিতে ঘাটতি অনুভব করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, ফোর্ড এখন তাদের সেইসব অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের ফিরিয়ে আনছে, যারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অটোমোবাইল শিল্পের বিবর্তন দেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে একটি বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই কেবল একটি সহায়ক হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের দূরদর্শী চিন্তা ও মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নেই। ফোর্ড এখন তাদের পুরনো প্রকৌশলীদের জ্ঞানের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন করে উৎপাদনের মানোন্নয়ন করতে চাইছে।
এই ঘটনাটি প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন বুঝতে পারছে যে, সব ক্ষেত্রে এআই-এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ফোর্ডের এই কৌশল পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির চরম উন্নতির যুগেও মানুষের সৃজনশীলতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শিল্পের মেরুদণ্ড হিসেবে টিকে আছে। আগামীতে ফোর্ড কীভাবে এই ভারসাম্য রক্ষা করে বাজারে নতুন গাড়ি নিয়ে আসে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে