মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ফলে অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি হুমকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে উভয় পক্ষই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা গত কয়েক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে উত্তেজনার এই নতুন ঢেউ শুরু হয় যখন মার্কিন বাহিনী ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কেবল পাল্টা আঘাতই হানেনি, বরং বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলার পরিধি বিস্তার করেছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী আচরণের কারণে তারা চলমান কূটনৈতিক আলোচনা স্থগিত করতে বাধ্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৭ জুন ২০২৬-এ মার্কিন বাহিনীর নতুন করে ইরানের সামরিক সাইটগুলোতে আঘাত হানার ঘটনাটি পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেছে। উভয় দেশের এই সামরিক অবস্থান পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই, বরং সংঘাতের মাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই নতুন উত্তাপ কেবল ওই দুই দেশের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এদিকে, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কূটনীতির চেয়ে সামরিক শক্তির প্রদর্শনকেই উভয় পক্ষ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে সরে এসে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে এই সংঘাত প্রশমিত না হলে তা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে