জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গত জুন মাসে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গনসহ সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের অপেশাদার ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১২ জুন রাতে, যখন ঢাকা থেকে বিমানে চট্টগ্রামে ফিরে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে নাঈম হাসানকে লালখান বাজার এলাকায় থামায় পুলিশ। একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ চোরাচালানের সন্দেহে নাঈমকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স সোহেলসহ অন্য সদস্যরা নাঈমকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন এবং পরবর্তীতে থানায় নিয়ে হেনস্তা করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে সেই রাতে নাঈম মুক্তি পান।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটি সাত দফা কৌশলগত সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মানবিক আচরণ, নিয়মিত পেশাদারিত্বমূলক প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনার স্বয়ং নাঈমের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। এখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার পর বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল। তবে স্বর্ণ চোরাচালানের ওই তথ্যের উৎস কী ছিল এবং কেন একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আপাতত ওই তথ্যের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে