ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া স্বজনদের উদ্ধারের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন অসহায় পরিবারগুলো। লা গুয়াইরার বিভিন্ন এলাকায় ধসে পড়া ভবনগুলোর সামনে স্বজনদের আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। তবে উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব এবং বিশাল কংক্রিটের স্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় শহরটির বেশ কিছু বহুতল ভবন এবং পুরনো অবকাঠামো পুরোপুরি ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজনদের বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অনেকের ক্ষীণ গোঙানির শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা উদ্ধারকারীদের মানসিক চাপের মুখে ফেলেছে। ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকার্য অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। বিশেষ করে সরু গলিগুলোতে ভারী ক্রেন বা বুলডোজার প্রবেশ করতে না পারায় উদ্ধারকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীকে নিয়োজিত করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থান এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলগুলো ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলার এই সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মানবিক সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছে। লা গুয়াইরার এই ট্র্যাজেডি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দেশটির ভঙ্গুর অবকাঠামো ও জরুরি মোকাবিলার প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সেই মানুষগুলোর ভাগ্যের দিকে, যাদের উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্ত যেন একটি যুদ্ধের মতো।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে