ভেনেজুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই বছরের শিশু ক্লেইবার মরান এখন এক নতুন জীবনের অপেক্ষায়। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন পুরো দেশ শোকস্তব্ধ, ঠিক সেই মুহূর্তে ক্লেইবারের জীবিত উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি যেন এক অলৌকিক আশার আলো নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ ১৪৪ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের অন্ধকারে আটকা থাকার পর উদ্ধারকর্মীরা তাকে অক্ষত অবস্থায় খুঁজে পান। এই দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া কীভাবে এই শিশুটি টিকে ছিল, তা চিকিৎসকদের কাছেও বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উদ্ধারের পর শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ক্লেইবারের দুঃসহ এই অভিজ্ঞতার খবর পাওয়ার পর তার খালা জানিয়েছেন, এখন থেকে তিনি শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করবেন এবং তাকে মাতৃত্বের উষ্ণতায় আগলে রাখবেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হারিয়ে এই শিশুটি এখন তার খালার কাছেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পটি দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও অনেকের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। তবে ক্লেইবারের মতো শিশুদের অলৌকিক বেঁচে থাকা উদ্ধারকর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো দুর্গতদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
শিশুটির এই বেঁচে ফেরা দুর্যোগকবলিত এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ক্লেইবার মরানের এই গল্পটি এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের মুখে মুখে। এটি কেবল একটি শিশুর বেঁচে যাওয়ার গল্প নয়, বরং চরম বিপর্যয়ের মুখেও মানুষের টিকে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও মানসিকভাবে সে কিছুটা বিপর্যস্ত, যা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তার খালা এবং আত্মীয়স্বজনরা এখন তার পাশে থেকে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে