ফুটবল যে কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ পেল বিশ্ববাসী। শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। ম্যাচের ১২৫তম মিনিটে ইউরি টিলেমান্সের পেনাল্টি গোলটিই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে এবং বারবার এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের এই পেনাল্টির সিদ্ধান্তে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেনেগালের খেলোয়াড়দের।
ম্যাচের অধিকাংশ সময় বেলজিয়ামকে চাপে রেখেছিল সেনেগাল। প্রথমার্ধ থেকে শুরু করে নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যন্ত তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। তবে বেলজিয়াম তাদের অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে বারবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষেও যখন কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে পারছিল না, তখন ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান।
নাটকীয়তার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে। ১১৯ মিনিটের মাথায় সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা ডি-বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রেফারি হেক্টর মার্তিনেজ প্রথমে পেনাল্টির সংকেত না দিলেও, ভিএআর (VAR) মনিটরে দীর্ঘক্ষণ রিপ্লে দেখার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। ধারাভাষ্যকারদের মতে, এটি সেনেগালের জন্য অত্যন্ত নির্মম এক সিদ্ধান্ত ছিল। ১২৫তম মিনিটে সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন টিলেমান্স।
ম্যাচ শেষে সেনেগালের খেলোয়াড়দের কান্নার দৃশ্য হৃদয়বিদারক ছিল। বিশেষ করে লামিনে কামারা নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরেও এমন এক বিতর্কিত পেনাল্টিতে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়াটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল তাদের জন্য। অন্যদিকে, বেলজিয়াম এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ম্যাচটি দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে একদিকে ছিল সেনেগালের অদম্য প্রচেষ্টা, আর অন্যদিকে বেলজিয়ামের শেষ মুহূর্তের ভাগ্যজয়ের গল্প।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে