সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সী তাপসী রানী বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি ‘সিভিয়ার অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া’ নামক রক্ত ও অস্থিমজ্জার এক বিরল এবং জটিল রোগে আক্রান্ত। গত ২৪ মার্চ আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কম ধরা পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যান। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, তাপসী রানীর অস্থিমজ্জা স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ৫ শতাংশ রক্ত তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অকার্যকর করে ফেলেছে।
তাপসী রানীর মেয়ে জয়া রানী মণ্ডল জানান, মায়ের জীবন বাঁচাতে পরিবারটি এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। এই বিশাল অংকের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে তাঁরা ভিটেমাটি বিক্রি ও বন্ধক রাখার মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় এ পর্যন্ত চিকিৎসা চললেও, এখন আর কোনোভাবেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মূল চিকিৎসা প্রক্রিয়া শেষ হলেও তাঁকে আগামী কয়েক মাস দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত বিভিন্ন ব্যয়বহুল মেডিকেল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই দীর্ঘমেয়াদী খরচ মেটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
আর্থিক সংকটের কারণে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় জয়া রানী মণ্ডল সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “মায়ের জীবন বাঁচাতে আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছি। এখন চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশবাসীর সহযোগিতা ছাড়া মায়ের এই লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন।”
সাহায্য পাঠাতে আগ্রহী ব্যক্তিরা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, সাতক্ষীরা শাখায় জয়া রানী মণ্ডলের হিসাব নম্বর ১৮০১৫৭০৬০৭৬৫৪ (রাউটিং নম্বর: ০৯০৮৭১০৯৪)-এ সহায়তা পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া সরাসরি যোগাযোগ বা বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ০১৭৫২-৩৯১৮৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। সামান্য মানবিক সহায়তা হয়তো একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে