মহাকাশ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি জানা গেছে, মার্কিন স্পেস ফোর্সের হয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ট্রু অ্যানোমালি’ (True Anomaly) এবং ‘রকেট ল্যাব’ (Rocket Lab) অত্যন্ত গোপনীয় ও কৌশলগত কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই মিশনগুলো মূলত মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘টপ গান’ স্টাইলে মহাকাশযানের কৌশলী মহড়া প্রদানের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সাধারণত সামরিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই ধরনের প্রযুক্তি এখন বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বিশ্ব মহাকাশ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে হাজার হাজার স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে, যা বিশ্ব যোগাযোগ, জিপিএস ব্যবস্থা এবং সামরিক নজরদারির মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। তবে এই স্যাটেলাইটগুলো বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য সাইবার হামলা বা সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ট্রু অ্যানোমালি এবং রকেট ল্যাবের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কক্ষপথে থাকা মার্কিন সামরিক স্যাটেলাইটগুলোর কাছাকাছি পৌঁছে সেগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা এবং কোনো হুমকির সম্মুখীন হলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই কার্যক্রমকে মহাকাশ গবেষণার ভাষায় ‘অরবিটাল প্রক্সিমিটি অপারেশন’ বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন স্পেস ফোর্স তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে। আগে স্যাটেলাইটের কোনো ত্রুটি বা হুমকি শনাক্ত করতে দীর্ঘ সময় লাগত, কিন্তু এখন ব্যক্তিগত মহাকাশযান ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মহাকাশে ‘টপ গান’ সিনেমার মতো নিখুঁত কৌশলে স্যাটেলাইটের চারপাশ পরিদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে। রকেট ল্যাবের তৈরি মহাকাশযান এবং ট্রু অ্যানোমালি’র উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মিশনগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে, যা মহাকাশ যুদ্ধে নতুন কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করছে।
যদিও এই কার্যক্রমকে মহাকাশ প্রযুক্তির উৎকর্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে এটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন এবং মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিতর্ককেও উসকে দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, তাদের এই উদ্যোগ মূলত প্রতিরক্ষামূলক। মহাকাশে কোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে এবং নিজ দেশের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে সুরক্ষিত রাখতে তারা বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগাচ্ছে। ভবিষ্যতের মহাকাশ যুদ্ধে কেবল রাডার বা টেলিস্কোপ নয়, বরং সরাসরি কক্ষপথে উপস্থিত থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশের মহাকাশ নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে