লুকানো ফি আদায়ের দায়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে ট্রাভেল অ্যাপ হপার

লুকানো ফি আদায়ের দায়ে ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনছে ট্রাভেল অ্যাপ হপার

ভ্রমণকারীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে ফি আদায়ের অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়েছে জনপ্রিয় ট্রাভেল অ্যাপ ‘হপার’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) কর্তৃক আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটি ৩৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে। এফটিসির তদন্তে উঠে এসেছে যে, হপার তাদের প্ল্যাটফর্মে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বা প্রতারণামূলক ডিজিটাল কৌশল ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নিত। মূলত বিভিন্ন সেবার প্রকৃত খরচ এবং এর সাথে যুক্ত লুকানো চার্জগুলো সম্পর্কে গ্রাহকদের স্বচ্ছ ধারণা না দিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হতো, যা ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তদন্তকারী সংস্থাটির ভাষ্যমতে, হপার তাদের অ্যাপে এমন কিছু বিভ্রান্তিকর ইন্টারফেস ব্যবহার করেছিল যা ব্যবহারকারীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে এবং অজান্তেই তারা বাড়তি খরচের ফাঁদে পা দেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ফ্লাইট বা হোটেল বুকিংয়ের সময় যে মূল্য দেখানো হতো, পেমেন্ট গেটওয়েতে যাওয়ার পর তার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হতো। এছাড়া ‘রিফান্ডেবল অপশন’ বা ‘ক্যান্সেল ফর এনি রিজন’—এ ধরনের সেবার ক্ষেত্রেও কোম্পানিটি গ্রাহকদের পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান করেনি। এফটিসির অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের মনে ভয় বা জরুরি অবস্থার কৃত্রিম ধারণা তৈরি করে হপার তাদের সেবাগুলো কিনতে প্ররোচিত করত, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।

এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় হপারকে শুধু জরিমানাই দিতে হচ্ছে না, বরং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। এফটিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে হপারকে তাদের প্রতিটি সেবার মূল্য এবং শর্তাবলি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে গ্রাহকদের সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো লুকানো চার্জ রাখা যাবে না এবং গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার মতো কোনো ডিজিটাল ডিজাইন বা কৌশল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হপার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে গ্রাহকদের স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই রায় একটি বড় সতর্কবার্তা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনলাইন বুকিং অ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়লেও, অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতার অভাব প্রদর্শন করে। এফটিসির এই পদক্ষেপ ডিজিটাল অর্থনীতির বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ৩৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল অংকের জরিমানা শুধু হপার নয়, বরং অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকেও তাদের গ্রাহকবান্ধব নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়াও

এআই প্রযুক্তির জয়যাত্রায় পরিবেশের ঝুঁকি: গুগল ও অ্যামাজনের প্রতিশ্রুতি কি ভেস্তে যাচ্ছে?

এআই প্রযুক্তির জয়যাত্রায় পরিবেশের ঝুঁকি: গুগল ও অ্যামাজনের প্রতিশ্রুতি কি ভেস্তে যাচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলেও, এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *