ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এক নাটকীয় ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দলটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তবে সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা।
ম্যাচটিতে মার্কিন মিডফিল্ডার তিলম্যানের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। দলের মূল স্ট্রাইকার মাঠ ছাড়ার পর যখন যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগ চাপের মুখে ছিল, তখন তিলম্যান নিজের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার ক্ষুরধার ফুটবল মেধা এবং মাঠের সঠিক পজিশনিং দলকে কেবল গোল খাওয়া থেকে বাঁচায়নি, বরং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়াতেও সাহায্য করেছে। তিলম্যানের এই উজ্জ্বল পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পথ সুগম করেছে।
ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন খেলোয়াড় কম থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা যেভাবে বসনিয়ার আক্রমণ সামলেছেন, তা ছিল প্রশংসনীয়। কোচিং স্টাফের কৌশলগত পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দলকে এই ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে। বালোগুনের লাল কার্ডটি দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, বাকি খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন, তা বর্তমান মার্কিন ফুটবল দলের ক্রমবর্ধমান উন্নতির বহিঃপ্রকাশ।
আগামী রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে বেলজিয়ামকে মোকাবেলা করতে হবে। শক্তির বিচারে বেলজিয়াম বেশ শক্তিশালী হলেও, বর্তমান ফর্মে থাকা মার্কিন দলটি যেকোনো অঘটন ঘটানোর সক্ষমতা রাখে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর নকআউট পর্বে উঠে আসা দলটি এখন নতুন স্বপ্নের পথে হাঁটছে। ফুটবল বিশ্বের নজর এখন বেলজিয়ামের বিপক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দিকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে