চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। স্থানীয় উদ্যোক্তা ফরিদুল আলম তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এক একর পাহাড়ি জমিতে গড়ে তুলেছেন ৩২ জাতের আমের এক সমৃদ্ধ বাগান। এক সময়ের পতিত জমি আজ তার হাত ধরে পরিণত হয়েছে সফলতার এক অনন্য মডেলে।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা এই পাহাড়ি জমি চাষাবাদের উপযোগী করে তোলা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিকূল পরিবেশ আর মাটির গুণাগুণ যাচাই করে ফরিদুল সেখানে আম্রপালি, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, গৌড়মতিসহ দেশি-বিদেশি মোট ৩২ প্রজাতির আমের চারা রোপণ করেন। তার এই উদ্যোগে কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিক বাগানের সমন্বয় ঘটেছে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে আমের সমারোহ দেখে স্থানীয়রা রীতিমতো বিস্মিত। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং নিজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাগানটি গড়ে তুলেছেন।
ফরিদুল আলমের এই উদ্যোগ কেবল অর্থনৈতিক সফলতার গল্প নয়, এটি লোহাগাড়ার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পাহাড়ি এলাকায় আম চাষের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য তরুণ উদ্যোক্তারাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তার এই বৈচিত্র্যময় বাগান দেখতে আসছেন। ফরিদুল মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ থাকলে অনুর্বর পাহাড়ি ভূমিকেও সোনার খনিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কৃষি উন্নয়ন নীতিমালার আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে যেন তারা পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসে। ফরিদুলের বাগানটি সেই জাতীয় লক্ষ্যমাত্রারই একটি বাস্তব উদাহরণ। সঠিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা পেলে এমন বাগান দেশের ফলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে