মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনি জটিলতা যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার লেখিকা ই. জিন ক্যারোলকে মানহানি ও যৌন নিপীড়নের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ লাখ (৫ মিলিয়ন) ডলার পরিশোধ করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন ক্যারোলের আইনজীবীরা। সম্প্রতি ট্রাম্পের করা একটি আপিল আবেদন আদালত কর্তৃক খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এই দাবি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে। ক্যারোলের আইনজীবীদের মতে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে এই অর্থ পরিশোধে বিলম্ব করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লেখিকা ই. জিন ক্যারোলকে যৌন নির্যাতন এবং পরবর্তীতে তার সম্মানহানি করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত ট্রাম্পকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ট্রায়াল রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন ক্যারোল। পরবর্তীতে ট্রাম্প এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিলে ক্যারোল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।
জুরির এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি মার্কিন আপিল আদালত ট্রাম্পের সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে ট্রাম্পের সামনে আইনি পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ক্যারোলের প্রধান আইনজীবী রবি কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, “আদালতের রায়ের পর এখন ট্রাম্পের আর কোনো অজুহাত খাটার সুযোগ নেই। এবার তার পাওনা পরিশোধ করার সময় এসেছে। তিনি কেবল সময় নষ্ট করার জন্য এই আপিল করেছিলেন।”
ক্যারোলের আইনি দল অভিযোগ করেছে যে, ট্রাম্প আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখতে চাইছেন। তারা বলেন, সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময় নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবার চেষ্টা করেন, কিন্তু বিচার বিভাগ প্রমাণ করেছে যে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ট্রাম্পের এই বিলম্ব করার কৌশলকে আদালতের প্রতি অবমাননাকর বলেও উল্লেখ করেন তারা। আপিল আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে যে, জুরির সিদ্ধান্তটি আইনসম্মত ছিল এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি যৌক্তিক।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটিই একমাত্র আইনি লড়াই নয়। তিনি বর্তমানে একাধিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন, যার মধ্যে ব্যবসায়িক জاليةতি, পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য অর্থ প্রদান এবং ২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্যারোলের মামলার এই রায় এবং আপিল খারিজ হওয়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্প ও তার দল বরাবরই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ডেমোক্র্যাটদের চাল বলে দাবি করে আসছেন।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে