যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের (Birthright Citizenship) দীর্ঘস্থায়ী আইনি নীতিকে পুনর্ব্যক্ত ও বহাল রেখেছে। মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর আওতায় দেশটিতে জন্মগ্রহণকারী যে কোনো শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে অধিকার ভোগ করে আসছিল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক থাকলেও আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আইনি ভিত্তি পেল। এই রায়টি এমন এক সময়ে এল যখন অভিবাসন নীতি নিয়ে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর ফেডারেল প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা এবং সন্তান জন্মদানের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করেন। সমালোচকদের মতে, বার্থ ট্যুরিজম অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, তবে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে সংবিধানের মৌলিক ধারাটি অক্ষুণ্ণ রইল। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে সংবিধানের মূল চেতনার জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরে এই রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রক্ষণশীল নেতারা অতীতে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নীতি পরিবর্তনের বা সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, এটি অবৈধ অভিবাসীদের উৎসাহিত করে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন আইনি লড়াইয়ের পথ কিছুটা সংকুচিত হলো। কলোরাডোর সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনের ফলাফল এবং স্থানীয় অভিবাসী অধিকার কর্মীদের প্রতিক্রিয়া এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেক মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন, এই রায় হাজারো অভিবাসী পরিবারের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, যারা দীর্ঘকাল ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় এই রায় অভিবাসন সংক্রান্ত জটিল আইনি বিতর্কে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে বিতর্ক থামার কোনো লক্ষণ নেই, তবে সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। আগামী দিনে মার্কিন নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যু যে অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হতে যাচ্ছে, তা এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দেশনেত্র দৃষ্টি ছাড়িয়ে